চর্যাপদ

চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় এর পদগুলির মধ্যে নিম্নোক্ত পদটি আমার সবচেয়ে ভাল লাগে। সুকুমার রায় এর "বাঙ্গালা ভাষার ইতিহাস" গ্রন্থে এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি রয়েছে।
তিনি লিখেছেন -ঢেণ্ঢণ-পায়ের নামে গানটি অনামা কবির রচনা। নামটি কুক্কুরীপায়েরই মতো। "ঢেণ্ঢণ" মানে যে ঢেঁড়ি অর্থাৎ ডুগডুগি বা ঢেঁটরা বাজাইয়া ভিক্ষাটন করে। নামটি যেকোনো চর্যাগীতিকারের পক্ষে খাটে। ইতিহাস ও সাহিত্য দুই দিক হইতে গানটির মূল্য আছে। বিষয় লোকপরিচিত প্রহেলিকামালা।
টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।
বেগ সংসার বড্‌হিল জাঅ
দুহিল দুধু কি বেন্টে যামায়।
বলদ বিআএল গবিআ বাঁঝে
পিটা দুহিএ এ তিনা সাঁঝে।
জো সো বুধী সোই নিবুধী
জো সো চৌর সোই দুষাধী।
নিতে নিতে ষিআলা ষিহে ষম জুঝঅ
ঢেণ্ঢণ-পাএর গীত বিরলেঁ বুঝই।

অবতরণিকা

     এসো হে বৈশাখ
    এসো এসো

    শুভ নববর্ষ
    ১৪১৫ সাল সকলের জন্য বয়ে আনুক সুখ ও সমৃদ্ধি। নতুন বাংলা বৎসরের এই শুভ দিনে জন্ম হল 'বাংলা সাহিত্য' নামাঙ্কিত ব্লগ। এ প্রসঙ্গে আমার অবতরণিকাটি নিম্নে লিখিত হল।

জনসংখ্যাধিক্যে বাঙালি বিশ্বের মানচিত্রে একটি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করেছে। বিশ্বের ইতিহাসে বাঙালিই একমাত্র জাতি যারা ভাষার জন্য বুকের রক্ত ঢেলে দিতে দ্বিধা করেনি। বাঙালি যৌবনের এ অমর আত্মত্যাগ ভাষার সভায় বাংলা ভাষাকে দিয়েছে এক সুমহান মর্যাদা।

খ্রিষ্টিয় নবম (মতান্তরে দ্বাদশ) শতকে কাহ্নপাদ, সরহপাদ প্রমুখের হাতে এ ভাষার জন্মবার্তা ঘোষিত হয়। কৃত্তিবাস, চণ্ডীদাস, বিদ্যাপতি, গোবিন্দদাস প্রমুখের প্রচ্ছয়ে এ ভাষা অতিক্রম করে তার বিক্ষুব্ধ কৈশোরকাল। কবি মধুসূদন দত্তের আলোকস্পর্শে বাংলা ভাষার শরীরে জেগে ওঠে তারুণ্যের উন্মাদনা। বিশ্বকবি তাকে করে তোলেন পরিমার্জিত, পরিশীলিত।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নানান চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বর্তমানে প্রমিত রূপ ধারণ করেছে, লাভ করেছে একটি সুস্থিত গতি। ভোরের পাখি ঈশ্বর গুপ্ত যে নবদিনের জন্মকালকে আবাহন করেছিলেন তার বয়স দ্বিশত শতাব্দী হতে চলেছে।

বাংলা ভাষাকে আশ্রয় করে জন্ম হয়েছে স্বাধীন দেশ বাংলাদেশের, পেয়েছে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা। মাতৃভাষা দিবসের চেতনা বাংলা ভাষাকে করে তুলেছে সর্বজনীন, বৈশ্বিক।

বাংলা সাহিত্যের পরিচিতি ও আলোচনা এই ব্লগের প্রধান উদ্দেশ্য।

বই আলোচনা সমালোচনা

সাহিত্যের Webzine