জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুদিবস

আজ ঝরা পালকের কবি জীবনানন্দ দাশ এর মৃত্যুদিবস। জন্মেছিলেন বরিশালে, ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৯ সালে। বরিলাশের কেটেছে শৈশব ও কৈশোর। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতক (সম্মান) ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এম এ ডিগ্রি লাভ করেন। অধ্যাপনা ছিল সবচেয়ে পছন্দের কাজ। কিছুদিন ইনসিওরেন্স কোম্পানির এজেন্ট ছিলেন, ব্যবসাও করেছেন। কিন্তু শেষে স্থিত হয়ে চেয়েছেন আই এ পড়েছেন যে কলেজে সেই ব্রজমোহন কলেজের অধ্যাপক পদে। কিন্তু তাও পারেননি। ১৯৩৫ থেকে ১৯৪৬ পর্যন্ত ছিলেন এখানে। তারপর কলকাতায় চলে যান। ১৯৪৭ সাল থেকে 'দৈনিক স্বরাজ' পত্রিকার সাহিত্য বিভাগ দেখতেন। এরপর খড়গপুর কলেজ, বড়িষা কলেজ ও হাওড়া গার্লস কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত হাওড়া গার্লস কলেজে ছিলেন।

সাহিত্য রচনার প্রাথমিক অবস্থায় তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যেন্দ্রনাথ প্রমুখের দ্বারা প্রভাবিত হলেও শেষ পর্যন্ত একটি নিজস্ব ধারার সূচনা করেন। তিনি বাংলা কাব্যে এক সম্পূর্ণ মৌলিক রচনারীতির প্রকাশ ঘটান। বাংলার প্রকৃতি তার কাব্য এক অন্যরকম ব্যঞ্জনাময় হয়ে ওঠে। আধুনিক নাগরিক জীবনের দুঃখ, হতাশা, নৈঃশব্দ, নিঃসঙ্গতা তার কাব্যে প্রকৃতির উপমায় চিত্রময়তা লাভ করে।

'ঝরা পালক', 'ধূসর পাণ্ডুলিপি', 'রূপসী বাংলা', 'বনলতা সেন', 'মহাপৃথিবী', 'সাতটি তারার তিমির' তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। তিনি একটিমাত্র প্রবন্ধগ্রন্থ লিখেছেন, 'কবিতার কথা'। মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় তার উপন্যাস 'মাল্যবান' ও 'সতীর্থ' এবং গল্পগ্রন্থ 'জীবনানন্দ দাশের গল্প'। ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতার রাস্তায় এক ট্রামের নিচে চাপা পড়ে বেদনার কবি জীবনানন্দের করুণ মৃত্যু হয়।

বর-কনের জন্য শুভমন্ত্র

শুভবিবাহের তুঙ্গমুহূর্তে যখন বর-কনে শুভদৃষ্টি বিনিময় করে, ঠিক সেইমুহূর্তে খারাপ মানুষেরা কুদৃষ্টি দিতে পারে। অমঙ্গলকামীদের ভাবনার ছোঁয়া বর-কনের জীবনে যেন না লাগে, সেজন্য এই মন্ত্রটি পড়া হয়। মানস মজুমদার তাঁর লোক-ঐতিহ্যের দর্পণে বইতে এই মন্ত্রটির কথা উল্লেখ করেছেন।
খুঁটিনাটি ছেড়ে দাও,
ভালমন্দ লোক থাক তো সরে যাও।
নইলে আমার মতো হাত হবে,
এক পালি চেলের ভাত ছ মাস খাবে।
প্রজাপতি নির্বন্ধ,
ভাল ছেড়ে যিনি করেন মন্দ,
শ্রীগৌরাঙ্গ হবে তার বাম।
তার মাছের হাঁড়ি ষাড়ে খাবে,
বেড়ালে চাল ফেরে যাবে।
গ্রীষ্মকালে টেরটা পাবে।
যেমনি কন্যা তেমনি বর,
পার্বতী আর দিগম্বর।
সখিগণে নগেন্দ্র ভুবনে,
দুর্গা দুর্গা বলে গো বদনে।।
মানস মজুমদার এই মন্ত্রটি হুগলী অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করেছেন।
বাংলা লোকসাহিত্যের ধারা-ওয়াকিল আহমদ, ২০০৭, ৬২২

বই আলোচনা সমালোচনা

সাহিত্যের Webzine